সামান্য এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই ফের বেআব্রু হয়ে পড়ল কলকাতার নাগরিক পরিকাঠামো। খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়কের ভিভিআইপি (VVIP) কেন্দ্র ভবানীপুরেই জল জমে যাওয়ার দৃশ্য ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলের নিকাশি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান জল জমে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘকাল ধরে রাজ্যে একই সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কেন নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো না, তা নিয়ে এখন জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বৃষ্টি থামার পরেই ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জি রোড, পিজি হাসপাতালের আশপাশ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অলিগলিতে জল জমে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসযাত্রী—সকলকেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই যদি এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পুরো এলাকাটি যে কী অবস্থায় দাঁড়াবে, তা ভাবলেই আতঙ্ক হচ্ছে। রাস্তার ওপর জল জমে থাকায় বহু জায়গায় ম্যানহোল ঢাকা পড়ে যায়, যা সাধারণ পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের মতো জনবহুল ও ঐতিহ্যবাহী এলাকায় নিকাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বর্তমান প্রশাসনের আরও অনেক বেশি সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। বিগত বছরগুলিতে নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষ তার কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মাটির নিচের ড্রেনগুলো নিয়মিত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডেসিলিং (Desilting) বা পলি অপসারণ না করার ফলেই জল ধারণ ক্ষমতা তলানিতে ঠেকেছে। পাম্পিং স্টেশনগুলির অপর্যাপ্ত কার্যকারিতা এবং মাস্টার ড্রেনেজ প্ল্যানে বড় ধরনের গলদের কারণেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে।
এদিনের এই ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন, খোদ শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই যদি এই করুণ দশা হয়, তবে কলকাতার বাকি এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্দশা কেমন হবে? কেবল সাময়িক পাম্প চালিয়ে জল নিষ্কাশনের চেষ্টা না করে, বর্তমান রাজ্য সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে আগামী দিনে শহরবাসীকে আর এই ধরনের জলবন্দি অবস্থার মুখোমুখি না হতে হয়।